August 9, 2026, 7:37 am

পেকুয়ায় ডিসি সড়কে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা

পেকুয়ায় ডিসি সড়কে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় ডিসি সড়কে ১৬ শতক জায়গা নিয়ে পেকুয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও পেকুয়া কবির আহমদ চৌং বাজারের পপুলার ফার্মেসীর মালিক বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফাঁসিয়াখালীর বাসিন্দা মোস্তাক আহমদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জায়গার আধিপত্য নিতে উভয়পক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জায়গা সংষ্কার ও স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ডিসি সড়কে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। তবে রেজিষ্ট্রি কবলামূলে খরিদ সুত্রে মালিক পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ তার নিয়ন্ত্রিত বসতবাড়ির জায়গায় ২৬ এপ্রিল (সোমবার) ভোরে স্থাপনা নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। টিনের ঘেরা ও গাছের খুঁটি দিয়ে মোস্তাক আহমদ তার সীমানার দক্ষিণ পাশের্^ টিনের বেড়া দেয়। খবর পেয়ে ওই দিন দুপুরের দিকে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির লোকজন গিয়ে টিনের ঘিরা বেড়া ভাংচুর ও অপসারণ চালায়। এ নিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা সাবেক পরিচালক ও বর্তমান সভাপতি মাও: কামাল হোছাইন জানিয়েছেন, একদল দুবৃর্ত্তরা ভোরে মাদ্রাসার জায়গায় অনুপ্রবেশ করে। এ সময় ওই চক্র মাদ্রাসার জায়গা জবর দখল করে সেখানেই টিনের ঘিরা দিয়ে স্থাপনা নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চালায়। মাদ্রাসার পক্ষে প্রতিবেশীরা এসে এ কাজে বাধা দিয়েছিল। মাদ্রাসার যাতায়াতের প্রধান প্রস্তাবিত সড়ক সেটি বন্ধ করে দেয়ার জন্য মূলত ওই পাঁয়তারা। আমি সকালের দিকে গিয়ে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অপরদিকে জায়গাটির খরিদ সুত্র মালিক পেকুয়া বাজারের পপুলার ফার্মেসীর স্বত্তাধিকারী মোস্তাক আহমদের ছেলে মো: কায়েস জানিয়েছেন, ডিসি সড়কে তার পিতা ১৬ শতক জায়গা খরিদ করেন। জায়গাটি ১৯৯৯ সালে খরিদ করা হয়। জায়গায় সংষ্কার কাজ চলমান রয়েছে। মাটি ভরাট করে সেখানে তারা বসতবাড়ি নির্মাণকাজ আরম্ভ করবেন। মাদ্রাসার উত্তর পাশের্^ আমাদের দক্ষিণ সীমানায় আমরা টিনের ঘিরা নির্মাণ করি। কিন্তু মাওলানা কামাল হোছাইনের কিছু অনুগত ভাড়াটে লোকজন এসে দিন দুপুরে আমাদের ঘিরা বেড়া ভাংচুরসহ ব্যাপক লুটপাট চালায়। তারা আমাদের বসতবাড়ি থেকে মালামাল নিয়ে যায়। মাওলানা কামাল হোছাইন বাদী হয়ে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে একটি মামলা রুজু করে। আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন পরিমাপ করে জায়গার বিষয়ে রায় প্রচার করে। সেখানে মৌলভী কামালের যুক্তি সঠিক নয় এমনকি আমাদের জায়গায় কোন ধরনের ঝামেলা না করতে রায়ে বারণ করা হয়েছে। মাদ্রাসার সড়ক উত্তর দিকে ছিলনা। সে বিষয়টি রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। ১৬ শতক জায়গার মধ্যে আমার পিতার ভোগ দখলে আছে ১১ শতক। ১ শতক জায়গা সড়ক নির্মাণে গেছে। আরো ৫শতক জায়গা এখনো আমরা পাইনি। এরপরও মাওলানা কামাল হোছাইন অহেতুক বাড়াবাড়ি করছে। পেকুয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মাও: মনির আহমদ জানান, পপুলার ফার্মেসীর মালিক মোস্তাক আহমদ মাদ্রাসার নামে তার খরিদা অংশ থেকে ৪ শতক জায়গা দেওয়ার কথা ছিল। সেই হিসেবে আমরা মাদ্রাসা বহুতল ভবন নির্মাণের সময় নকশা চুড়ান্ত করেছি ডিসি সড়কের সাথে মাদ্রাসার যাতায়াত প্রধান সড়কটি একীভূত থাকবে। সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হলে মাদ্রাসার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন অনেকটা থেমে যাবে। পপুলার ফার্মেসীর মালিক মোস্তাক আহমদ জানান, আমার জায়গার উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে মৌলভী কামালের। মাদ্রাসার জন্য যারা জমি দিয়েছে ওই জমি মৌলভী কামাল স্ত্রী ও মেয়ের নামে পরবর্তীতে কবলা নিয়ে ফেলেছে। এটি মাদ্রাসার স্বার্থ নয়। মৌলভী সাহেব ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আমাকে হয়রানি করছে। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হয়েছে। পুলিশ গিয়েছিল। তারা সমাধান করতে চাইলে পারবেন। না হয় কোর্টে গিয়ে নিস্পত্তি করার জন্য বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com